প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের মে মাসের এই উত্তাল সময়ে দুর্নীতি দমনে সরকার ও বিচার বিভাগ আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ এবং তাঁর স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। শুনানিতে দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল মামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন:
মাহবুব উল আলম হানিফের সম্পদ: তাঁর বিরুদ্ধে ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং ১৮টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ফৌজিয়া আলমের সম্পদ: হানিফের স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের নামে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
আইনি ধারা: তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করার অভিযোগে এই নথি জব্দের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এই বিচারিক তৎপরতা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান অধিকার আদায়ের লড়াইয়েরই একটি অংশ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও শাসনতান্ত্রিক বিবর্তন (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে এবং ব্রিটিশ আমলের শেষের দিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যে দাবি এ অঞ্চলের মানুষ করেছিল, বর্তমানের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন তারই একটি দীর্ঘ বিবর্তিত রূপ।
স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মূলত শোষণ ও অবিচার থেকে মুক্তির অঙ্গীকার। স্বাধীন বাংলাদেশে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অন্যতম লক্ষ্য, যা তিনি তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন।
গণতন্ত্র ও ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান: দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এক নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের এই ‘নতুন বাংলাদেশে’ এখন প্রতিটি নাগরিক বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি দেখতে চায়।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশ—আমাদের মূল শিক্ষা হলো, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। বর্তমান সংস্কারমুখী সরকার ও স্বাধীন বিচার বিভাগ মাহবুব উল আলম হানিফের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য অংশ। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলের আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি হোক কিংবা ২০২৬ সালের রাজনৈতিক দুর্নীতির চিত্র—বিচার বিভাগ ও দুদকের এই সক্রিয়তা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে দাঁড়িয়ে জনগণের প্রত্যাশা হলো, এই বিচারিক প্রক্রিয়া যেন কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাহত না হয় এবং লুণ্ঠিত অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগারে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
সূত্র: ১. ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশ (১১ মে, ২০২৬)। ২. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রেরিত অভিযোগপত্র ও প্রসিকিউটর বক্তব্য। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ও বিচারিক বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |